zo-th-1
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

মানসাঙ্ক

লেখকঃ ডা. শামসুল আরেফীন

প্রকাশনীঃ সমর্পণ প্রকাশন

বিষয়ঃ পরিবার ও সামাজিক জীবন ,

#CODE: a59094549
average rating: 4.3
৳ 175 ৳ 250

মানসাঙ্ক

প্রকাশনী : সমর্পণ প্রকাশন

সম্পাদনা: আসিফ আদনান
শারঈ সম্পাদনা: মাওলানা মুহাম্মদ আফসারুদ্দীন
মোট পৃষ্ঠা: ১৮০

পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে ‘ধর্ষণ তারপর হত্যা।’ গর্ভবতী নারী থেকে শুরু করে অবুঝ শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এই ছোবল থেকে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমগুলো খুব কমই আসে, এর পেছনে থেকে এমন অনেক না বলা ঘটনা। এ থেকে বোঝা যায় গত ১০ বছরে যৌন-সহিংসতা কয়েক গুণে বেড়ে গেছে। সভা-সেমিনার-র‍্যালি, আইন কোনো কিছুর কমতি নেই; তবুও থামানো যাচ্ছে না। কেউ কেউ করছে ধর্ষণের সেঞ্চুরি! দিন দিন বেড়েই চলেছে এসবের মাত্রা। কেন?
ধর্ষণের মৌলিক কারণ কী? এত নিকৃষ্ট কাজ মানুষ কীভাবে করতে পারে? যৌন-সহিংসতার পেছনে কারা ভূমিকা রাখে? একটা মানুষ কীভাবে এতো নীচে নামতে পারে?
উত্তর মিলবে ‘মানসাঙ্ক’ বইতে। এতে ফুঁটে ওঠেছে বিভিন্ন গবেষণাধর্মী তথ্য-উপাত্ত, সমস্যা চিহ্নিতকরণ; এসেছে প্রতিটির সমাধান। এবং প্রতিটি সমাধানে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং সবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারীদের ওপর যৌন-হয়রানি বিষয়ে সম্ভবত এই বইটি প্রথম।

Add a review

Please log in to write review

Login

Reviews and Ratings

Nafisha Yasmin - February 10,2021

প্রারম্ভিকা --------------- আধুনিক বিশ্ব সভ্যতায় মহামারী আকারের‌ যে বিষফোঁড়া মানবসমাজ এর অবক্ষয়ের কারণ সেটা হলো “ধর্ষণ”। ধর্ষণ এমনই একটা হিংস্র শব্দ যা ত‌ৎক্ষণাৎ মানুষের অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে দিতে প্রস্তুত। ধর্ষণে সবথেকে এগিয়ে আমাদের স্বপ্নের দেশগুলো,প্রথম বিশ্ব।এই মহামারির‌ কবল থেকেপিছিয়ে নেয় আমাদের দেশের মত গরীব দেশ‌ও। সকালে চায়ের‌ কাপ থেকে সান্ধ্য আড্ডার পত্রিকাতে ধর্ষণ শব্দটা পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে মানুষের প্রত্যহ রুটিনে‌। পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে ‘ধর্ষণ তারপর হত্যা।’গর্ভবতী নারী থেকে শুরু করে অবুঝ শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এই ছোবল থেকে। সবশেষে আমাদের সাময়িক শোক আবর্তিত হয় নিউজ সাইকেলের সাথে। তার সাথে চলে কিছুদিন সভা-সেমিনার-র‍্যালি, মোমবাতি মিছিল,আইনের পরিবর্তন ------ কিছুদিন চলে হুজুগে লাফালাফি দিন দু’য়েক পর আবার এই হুজুগেপনা ইউজলেস টিস্যুর মতো পড়ে থাকে নতুন এক ইস্যুর অতলে। ধর্ষনের জন্য কে দায়ী? পুরুষের হীন মানসিকতা নাকি নারীর খোলামেলা চলাফেরা? বিজ্ঞনমনস্করা মানবমনের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরেন ঠিক‌ই কিন্তু এর সমাধানে পৌঁছানোর সাধ্য তাদের‌ নেই। সব উত্তর মিলবে ‘মানসাঙ্ক’ বইতে। এতে ফুঁটে ওঠেছে বিভিন্ন গবেষণাধর্মী তথ্য-উপাত্ত, সমস্যা চিহ্নিতকরণ; এসেছে প্রতিটির সমাধান। এবং প্রতিটি সমাধানে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং সবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারীদের ওপর যৌন-হয়রানি বিষয়ে সম্ভবত এই বইটি প্রথম। লেখক - পরিচিতি -------------------------- লেখক ড. শামসুল আরেফীন পেশায় একজন চিকিৎসক। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য একজন লেখক। তাঁর লেখা এই প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। পরবর্তী ব‌ই কষ্টিপাথর, কুররাতু আইয়ূন ১ ও ২, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ২.০ এবং মানসাঙ্ক। দিনশেষে স্রষ্টাপ্রদত্ত সমাধানে মানবসভ্যতার ফিরে আসা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই এ কথাই ফটে ওঠে তার লেখায়। ব‌ইয়ের আলোচ্য বিষয় --------------------------------- মানসাঙ্ক ব‌ইটির মূল বিষয়বস্তু শুধু ধর্ষণ নয় , লেখক ড. শামসুল আরেফীন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিশদে গভীর আলোচনা করেছেন মানব-মনের জটিল স্তর,কাম প্রবৃত্তির প্রকারভেদ, অপরাধপ্রবণতা এবং তার ধরণ, উদ্দীপক ও পরিবেশ কিভাবে সাধারণ যৌনপ্রবৃত্তি মানুষকে বিকৃত করে তোলে এবং মানুষের মনের‌ নিষিদ্ধ চাহিদা , অন্তরের নিষিদ্ধ গহ্বরের হদিশ এইসব সম্পর্কিত গবেষণাধর্মী তথ্য-উপাত্ত, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমস্ত কিছুর সমাধান রয়েছে আল্লাহ রচিত জীবন-বিধানে। পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা মানব-মনের সমস্যা গুলো নিঁখুতভাবে পর্যালোচনা করেছে ঠিকই কিন্তু পৌঁছাতে পারেনি সমাধানের শেষ বিন্দুতে, সমাধান দিতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে সেই সমস্যাগুলোর মধ্যেই যার ফলস্বরূপ ধর্ষণের মতো ব্যাধি আর‌ও প্রকটভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বসংসারে। প্রতিটি যন্ত্রের যেরকম ম্যানুয়াল থাকে পরিচালনা করার জন্য তেমনি এই মানবজাতি তথা সমগ্র বিশ্বজগতের স্রস্টা তাঁর সৃষ্টি মানুষকে পরিচালনা করার জন্য এক "ম্যানুয়াল" তথা "লাইফ-কোড "পাঠিয়েছেন তাঁর‌ প্রিয় রাসূলের মাধ্যমে। সেই চোদ্দোশো বছর আগে আগত স্রস্টা রচিত জীবন-বিধান‌ই মানবতার একমাত্র মুক্তির উপায়। ব‌ই-আলাপন -------------------- মানসাঙ্ক ব‌ইটিতে মূল তিনটি অধ্যায় এবং এই তিনটি অধ্যায়ের‌ মধ্যে অনেক ছোট ছোট উপবিভাগ রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে। 🔵প্রথম অংশে রয়েছে--- ⭕মানসাঙ্ক এই অংশে আলোচিত হয়েছে, ✔️ধর্ষণ কি? এবং এর কারন কি? ✔️মানবমনের চোরাগলি, অন্ধকার অলিগলির হদিশ:- আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় মনের তিনটি স্তর‌ রয়েছে : ১) চেতন স্তর ২) অবচেতন স্তর ৩) অচেতন স্তর ✔️সব ধর্ষণের একটা কমন ফর্মূলা রয়েছে:- ⚫ফ্যাক্টর ১. মেন্টাল সেট-আপ ⚫ পরিবেশ(সেটা হতে পারে পরিস্থিতির সাপেক্ষে নির্জন অথবা পরিকল্পিত ভাবে সৃষ্ট নির্জন) ⚫উদ্দীপক বা স্টিমুলাস। ✔️ধর্ষক কারা আশ্চর্যের বিষয় হলো ৮% বাদে বাকি ‌৯২% ধর্ষক‌ই স্বাভাবিক রুচির, যৌন-আগ্রহের মানুষ। সুতরাং বহুল প্রচলিত ধারণা ধর্ষক মানেই বিকৃত রুচির এটা ভুল। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে ,যারা ধর্ষণ করছে তাদের অধিকাংশই আমার আপনার মত সাধারণ মানুষ, গৃহী মানুষ, ভালো-মন্দের সহজাত ক্ষমতা রাখা মানুষ। এগুলো নিতান্ত মানবিক নিষ্ঠুরতা, কোন মানসিক বিকার‌ নয়।এর পিছনে রয়েছে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, বর্তমান সামাজিক কাঠামো,সংস্কৃতি ও রাস্ট্রের বাস্তবতা। 🔵দ্বিতীয় অংশ ⭕মানসাঙ্কের সমাধান (পশ্চিমাদের সমাধান) --------------------------------------------------------------- আমাদের স্বপ্নের দেশগুলোতে কিভাবে মেয়েরা যৌন হেনস্থার শিকার হয় প্রতিনিয়ত। ৫৭% নারী যৌন হয়রানির‌ শিকার ১৪- ১৭ বছর বয়সের মধ্যেই।৫১% বিনানুমতিতে স্পর্শ এবং ৩৮% যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে কর্মস্থলে। যৌন হেনস্থা সেখানে ডালভাতের মত সহজ ব্যাপার। এই অংশে লেখক দেখিয়েছেন উন্নত বিশ্বে মনে করে সহশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করলে এবং ফ্রি সেক্স এর অনুমতি দিলেই ধর্ষনের মত ঘটনা গুলো আর ঘটবে না। অথচ এই ফ্রি সেক্স, পতিতালয় ধর্ষণের ঘটনাকে আর‌ও বেশি ত্বরান্বিত করে। সমস্ত কিছু রেফারেন্স ও প্রমাণ দলিল সহ লেখক উপস্থাপন করেছেন। 🔵শেষ অধ্যায় ⭕আমাদের সমাধান(ইসলাম কি বলে?) মানব রচিত বিধি বিধানে ধর্ষণ কখনো বন্ধ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবেনা, শুধুমাত্র ধর্ষণের হার বৃদ্ধি পাবে উত্তরোত্তর। এই অংশে লেখক বিভিন্ন যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স এর মাধ্যমে দেখিয়েছেন ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলেই ধর্ষণ সম্পর্কিত সকল কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা শুধু নয় সমস্ত সামাজিক ও মানবিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব কারণ ইসলাম শুধুমাত্র স্রস্টার রচিত জীবন-বিধানে।ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার কথা বলে। ইসলাম কখনো মানবজাতির বিচ্ছিন্ন কোন ব্যক্তি, পোশাক কিংবা লিঙ্গের প্রতি ফোকাস করেনা, একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা দেয় যা সব ধরণের যৌন অপরাধকে নিয়ন্ত্রন করে স্থায়ী সমাধান দেবে। পাঠ্য-অনুভূতি --------------------- মনোবিজ্ঞান সম্পর্কিত এটাই আমার প্রথম পড়া ব‌ই। এমন‌ই একটা ব‌ই যা অল্প সময়ের মধ্যেই গভীর ভাবনায় ডুবিয়ে দেয়। হতবিহ্বল করে দেয় মনোবিজ্ঞানের সূক্ষ বিশ্লেষণ, মনের জটিল স্তর, মানবিক চাহিদার খবর জেনে। আমরা সব‌ই জানি বুঝি কিন্তু বুঝতে চাইনা কারণ লুকিয়ে রাখি নিজের স্বত্বাকে। এই ব‌ই যা মানুষের মনের অলিগলি চষে চোরাগলি র খবর নিয়ে এসেছে। অবাক লাগে, যারা ধর্ষকের মত অপরাধী তারাও আমার আপনার মত খুব সাধারণ মানুষ। এক কথায় ধাক্কা দেয় নিজের মনের অন্তরালে লুকিয়ে রাখা অবচেতন মনকে। কেন পড়বেন --------------------- নিজেকে জানতে, নিজের মানবীয় অস্তিত্বকে পরোখ করতে পড়বেন। জানবেন মনের চোরাগলির খবর। আপনার অজান্তেই অবচেতন মনের কুঠুরিতে যে সূক্ষ তরঙ্গের খেলা চলে যার তাড়নায় অপরাধ প্রবণতা লালিত হয় সেই নিষিদ্ধ কুঠুরির খবর। জানবেন মানুষ মৌলিকভাবে ভালোও না আবার খারাপ‌ও না। মানুষ হলো মানবিক স্বত্বা যা স্বর্গীয় ও পাশবিক ,সাদা ও কালোয় মেশানো।যে মানুষ অবিশ্বাস কল্যাণের ক্ষমতা রাখে সেই ক্ষমতা রাখে অচিন্তনীয় নিষ্ঠুরতার।এই ভালো মন্দ দুই ধারণ করেন আমি আপনি,এই দুই ক্ষমতা নিয়েই ঘুরে বেড়ায় আমরা। এবং জানবেন এসবের সমাধান মানবরচিত সংবিধানে সম্ভব নয়। সম্ভব শুধুমাত্র রব রচিত বিধানে। শেষ কথা --------------- বেলাশেষে পাখি যেমন নীড়ে ফেরে যেখানে আছে তার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং সর্বোপরি স্বাধীনতা ।তেমন‌ই মানবসভ্যতার মুক্তির পথ নিহিত স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের রচিত জীবন বিধানে, কারণ বিশ্বজগতের মহা প্রতিপালক তাঁর‌ তামাম সৃষ্টির পরিচালনার জন্য‌ই প্রেরণ করেছেন আল-কুরআন। তিনিই জানেন তাঁর সৃষ্টির ভুল‌ ত্রুটি প্রকৃতি সম্পর্কে এবং তিনিই অবগত কিসে মন্দ, কিসে ভালো। নির্মল পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা হোক আল্লাহর শাসন। ব‌ই: মানসাঙ্ক লেখক:শামসুল আরেফিন প্রকাশনা: সমর্পণ

আব্দুর রহমান - February 03,2021

মানুষকে আল্লাহ তায়ালা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই ইচ্ছাশক্তি কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আমানত স্বরুপ। এই আমানতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব। কিন্তু মানুষের স্বভাব চরিত্র স্বাধীন হওয়ায় কিছু মানুষ আল্লাহর দেখানো পথ থেকে সরে যেতে শুরু করে। তাদেরকে পেয়ে বসে সমাজের অশ্লীলতা, অন্ধ গোড়ামী, সহ নানা রকম ইস্যু। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ে খুন, রাহাজানি, ডাকাতি, এমনকি ধর্ষন ও যৌনহয়রানির মত ভয়ংকর সব অপরাধের সাথে। ধর্ষণ যে কতটা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে তা একটু বাস্তবতার দিকে তাকালেই দেখা যায়। , বর্তমানে টিভি ও পত্রিকা খুললেই একটি খবর মোটাদাগে চোখে পড়ে তা হলো অমুক জায়গায় অমুক মেয়েকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে। ৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা এমনকি গর্ভবতী নারীরাও রক্ষা পাচ্ছে না এই ধর্ষণের ছোবল থেকে। এর জন্য ছেলেরা দোষ দেয় মেয়েদেরকে। মেয়েদের অভিযোগের তীর আবার ছেলেদের দিকে। মেয়েরা যেমন বলে ধর্ষণের জন্য ছেলেদের লালসাপূর্ণ ও কামনাময় দৃষ্টি দায়ী। ছেলেরা আবার বলে এর জন্য মেয়েদের বেপর্দা ভাবে চলাফেরাই প্রধান কারন। , বর্তমানে ধর্ষন প্রতিরোধে তো কত সচেতনতা সভা, আলোচনা সভা, সেমিনার হচ্ছে। ধর্ষকের শাস্তি ও ধর্ষিতার ন্যায় বিচারের দাবিতে মিছিল মিটিং, মানব বন্ধন, অবরোধ হচ্ছে। নিত্যনৈমিত্তিক কত আইনই তো তৈরী হচ্ছে ভয়ংকর ব্যাধী এই ধর্ষনের কবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে। কিন্তু এতকিছুর পরও আমরা দেখতে পাই ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী তো কমছেই না। এতসব করেও ফলাফল প্রায় শুণ্যের কোঠায়। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই এই ধর্ষন নামের এই ব্যাধী কমে যাওয়া তো দূরের কথা বরং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েই চলেছে। তাহলে এই ধর্ষনের কারন কি? কেন সমাধান হচ্ছে না? কিভাবে পাওয়া যাবে ধর্ষন সমস্যার সমাধান?। , এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে পড়তে হবে মানসাঙ্ক বই টি। লেখক ড: শামসুল আরেফিন। আমার মনে হয়। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী নিয়ে এত বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের সাহায্যে রচিত এই বইটিই প্রথম। ☢ ☸কি আছে মানসাঙ্ক বইতে?☸ বই খুললে দেখা যায় বইতে ধর্ষণ সম্পর্কে প্রধান তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম অংশ:- ধর্ষণ কি? এবং এর কারন কি? অমরা অনেকেই মনে করি মেয়েদের উশৃঙ্খল চলাফেরার জন্যই বুঝি ধর্ষনের মত ঘটনাগুলো ঘটে। কিন্তু মানসাঙ্ক বইটি পড়লে জানা যায় মেয়েদের উশৃঙ্খল চলাফেরা ধর্ষনের অনেক গুলো কারনের মধ্যে একটি। প্রধানত ধর্ষনের জন্য প্রধান তিনটি কারন দায়ী। যেমন (১) মেন্টাল সেট আপ (সেক্স উত্তেজনার মানসিকতা (২) উপযুক্ত পরিবেশ (৩) উদ্দিপক( ধর্ষণ করার জন্য সামনে যা কিছু পাওয়া যায় যেমন নারী,শিশু, পশুপাখি ইত্যাদি ) । লেখক রেফারেন্স সহ দেখিয়েছেন এই তিনটি কারন এক সাথে হলে ধর্ষন হবেই। ☢ ২য় অংশ: এই অংশে লেখক দেখিয়েছেন উন্নত বিশ্বে মনে করে সহশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করলে এবং ফ্রি সেক্স এর অনুমতি দিলেই ধর্ষনের মত ঘটনা গুলো আর ঘটবে না। আসলে এসব যে ধর্ষনের গতিপথকে রোধ করতে পারে না তা রেফারেন্স ও প্রমাণ সহ দেখতে হলে তো মানসাঙ্ক বইটি পড়তেই হবে। ☢ ৩য় অংশ: এত কিছুর পরেও যখন ধর্ষন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তখন বুঝতে হবে সমাধানের জন্য নেয়া পদক্ষেপ গুলো ভুল ছিলো। কিন্তু আসল সমাধান তো ইসলামে অন্য পদ্ধতি প্রয়োগ করলে তো সমাধান সম্ভব নয়। এই অংশে লেখক বিভিন্ন যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স এর মাধ্যমে দেখিয়েছেন ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলেই ধর্ষণ সম্পর্কিত সকল কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারন ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ধর্ষণ প্রতিরোধে তো অনেক সুপারিশ, পরিকল্পনা কমিটি আলোচনা সভা হয়। কিন্তু তা বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়না । ধর্ষন সমস্যার প্রকৃত সমাধান যে ইসলামেই নিহিত তা সুশীল সমাজ আজ বুঝতে চায় না। সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিধানের মধ্যেই রয়েছে ধর্ষন নামক এই সমস্যার প্রকৃত সমাধান। শেষ কথা হলো পেতে হলে সমাধান ফিরে এসো ইসলামে। ☢ ☸বইটি কাদের জন্য :-☸ (১) যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন রেফারেন্স সহ ধর্ষণের কারনগুলো সম্পর্কে অবহিত হতে চান বইটি তাদের জন্য। (২)যারা মুসলিম, কুরআন সুন্নাহতে বিশ্বাসী তাদের বইটি অবশ্যই পড়া উচিত। (৩) যারা শিক্ষকতায় কাজ করেন বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধর্ষন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের জন্য বইটি পড়া উচিৎ। (৪) যারা পরিপূর্ন পর্দার সহিত চলাফেরা করেন বা করতে ইচ্ছুক বইটি অবশ্যই তাদের পড়া উচিত। ☢ ☸ব্যক্তিগত গত অনুভূতি:-☸ বইয়ের প্রতিটি পাতায় রয়েছে লেখকের কঠোর পরিশ্রমের ছোয়া। সত্যি কথা বলতে বইটি পড়ে আমি নির্বাক হয়ে গেছি। ধর্ষন সম্পর্কে বই লিখতে এত বিপুল পরিমানে তথ্য, প্রমান, ও রেফারেন্স দিয়ে লিখা মনে হয় ডা: শামসুল আরেফিনের পক্ষেই সম্ভব।

Maksud alam - January 24,2021

দর্শনের উপর লিখিত এই বইটিতে অত‍্যন্ত সুন্দরভাবে লেখক ধর্ষণের কারণ গুলো উল্লেখ করেছেন। এবং বিশ্লেষণ করেছেন কেন আমাদের সমাজে ধর্ষণ এত বৃদ্ধি পায়। তিনি এই বইটিতে উল্লেখ করেছেন শুধুমাত্র ইসলামিক বিধিবিধান মেনে চললে ধর্ষণ নামক এই ব‍্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।